ভাড়া ও বিল

ফ্ল্যাটমেটদের সঙ্গে ভাড়া আর বিল ভাগ করবেন কীভাবে

ভাড়া, ইলেকট্রিক বিল, Wi-Fi, জলের জার, কাজের দিদির মাইনে আর বাজার — ফ্ল্যাটমেটদের সঙ্গে ভাগ করার ব্যবহারিক নিয়ম, ডিপোজিট আর মাসিক সেটলমেন্ট সহ।

১০ মিনিট পড়ুন

অ্যাপটি নিজে দেখতে চান? Lekhhaa — ভারতের জন্য ফ্রি বিল ভাগ করার অ্যাপ — Android, iOS আর ওয়েবে ফ্রি।

সল্টলেকের একটা তিন কামরার ফ্ল্যাটে তিনজন থাকেন। ভাড়া ₹27,000, তার উপর ইলেকট্রিক বিল, Wi-Fi, জলের জার, কাজের দিদি, রান্নার দিদি আর বাজার। মাসে প্রায় ₹45,000-র খরচ, আর সেটা দিচ্ছেন তিনজন আলাদা আলাদা সময়ে, আলাদা আলাদা অ্যাপ থেকে। ছ মাস পরে কে কত দিয়েছে সেটা কারও পরিষ্কার মনে নেই, আর ঠিক এই জায়গা থেকেই বেশিরভাগ ফ্ল্যাটমেট সম্পর্কে চিড় ধরে। ভাগটা ঠিকভাবে করলে সমস্যাটা তৈরিই হয় না।

ঢোকার আগেই ভাড়ার পদ্ধতি ঠিক করুন

ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে যে আলোচনাটা করতে একটু অস্বস্তি লাগে, ছ মাস পরে সেই একই আলোচনা করতে দশ গুণ বেশি অস্বস্তি লাগে — কারণ তখন সেটা আর নিয়ম ঠিক করা নয়, অভিযোগ হয়ে দাঁড়ায়। ভাড়া ভাগের তিনটে চালু পদ্ধতি আছে, আর তিনটেই ন্যায্য; শুধু সবাইকে একটাতে রাজি হতে হবে এবং সংখ্যাগুলো লিখে রাখতে হবে।

সমান ভাগ — মোট ভাড়াকে মাথার সংখ্যা দিয়ে ভাগ। ₹27,000 তিনজনে মানে ₹9,000 করে। ঘরগুলো যদি প্রায় একই রকম হয় তাহলে এটাই সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে কম ঝগড়ার পদ্ধতি, কারণ এতে কোনও অঙ্ক কষতে হয় না আর প্রতি মাসে নতুন করে কিছু ঠিক করতে হয় না।

ঘরের মাপ অনুযায়ী — বড় ঘর বা অ্যাটাচড বাথরুমওয়ালা ঘর বেশি ভাড়া দেবে। ওই ₹27,000 হতে পারে মাস্টার বেডরুমে ₹11,000, মাঝারি ঘরে ₹9,000, আর ছোট ঘরে ₹7,000। ঘরের মাপে যেখানে সত্যিই বড় ফারাক, সেখানে সমান ভাগ করলে বাইরে কেউ কিছু বলে না কিন্তু ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ জমতে থাকে, আর সেটা এক বছর পরে অন্য কোনও ছোট বিষয়ে বেরিয়ে আসে।

কতজন থাকছে সেই অনুযায়ী — একটা ঘরে যদি দুজন থাকে, তাহলে সেই ঘরের ভাগ বেশি হবে। সাধারণ হিসাব হল প্রতিটা ঘরকে সেই ঘরে থাকা মানুষের সংখ্যা ধরে ওজন দেওয়া, তবে ঠিক দ্বিগুণ নয় — কারণ দুজন এক ঘরে থাকলে জায়গাটা ভাগ করেই থাকে। দেড় থেকে পৌনে দুই গুণ ধরাই বেশি প্রচলিত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সবাই এটা মেনে নেন।

যেটাই বাছুন, চূড়ান্ত সংখ্যাগুলো লিখে রেখে সবাইকে দেখান — মুখের কথায় রাখবেন না। Lekhhaa-তে ফ্ল্যাটের জন্য একটা গ্রুপ বানিয়ে ভাড়ার ভাগটা নির্দিষ্ট টাকা হিসেবে একবার বসিয়ে দিলে প্রতি মাসে আর নতুন করে কিছু ঠিক করতে হয় না, আর নতুন কেউ এলে তিনিও দেখে নিতে পারেন কীভাবে ভাগ হচ্ছে।

সিকিউরিটি ডিপোজিট আলাদা করে রাখুন

কলকাতায় সাধারণত দু থেকে তিন মাসের ভাড়া ডিপোজিট হিসেবে লাগে, অর্থাৎ ₹27,000-র ফ্ল্যাটে ₹54,000 থেকে ₹81,000। এটা খরচ নয়, এটা জমা টাকা — তাই এটাকে মাসের হিসাবের সঙ্গে কখনও মেশাবেন না। মেশালে মনে হবে প্রথম মাসে খরচ আকাশছোঁয়া, আর তুলনা করার কোনও ভিত্তিই থাকবে না।

ডিপোজিটের জন্য একটা আলাদা লিখিত হিসাব রাখুন: কে কত দিয়েছে, আর কার কাছে কী পাওনা রইল। যদি একজন পুরোটা দিয়ে থাকেন, তাহলে বাকিরা তাঁকে যা দেবে সেটাও ওই হিসাবেই থাকবে। ফ্ল্যাট ছাড়ার সময় বাড়িওয়ালা যা ফেরত দেবেন, সেটা ঠিক একই অনুপাতে ভাগ হবে। রঙের খরচ বা ভাঙাচোরার জন্য যদি কিছু কাটা যায়, সেটা সবাই সমানভাবে বহন করবে — যদি না ক্ষতিটা স্পষ্টভাবে একজনের করা হয়।

ইলেকট্রিক বিল — সবচেয়ে বেশি তর্কের জায়গা

কলকাতায় CESC-র বিল আসে মাসে মাসে, আর গরমকালে সেটা লাফিয়ে বাড়ে। শীতকালে ₹1,800-র বিল জুন মাসে ₹6,500 হয়ে যেতে পারে, অর্থাৎ তিন গুণের বেশি। এই লাফটাই সমস্যা তৈরি করে, বিশেষ করে যদি একটা ঘরে AC থাকে আর বাকিগুলোয় শুধু ফ্যান — কারণ তখন সমান ভাগ করাটা সত্যিই অন্যায্য মনে হয়, আর সেটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক।

ব্যবহারিক সমাধান হল বিলটাকে দু ভাগে ভাগ করা, আর মিটার বসানোর মতো জটিল কিছু না করা। বিলের একটা অংশ — কমন এলাকার আলো, পাখা, ফ্রিজ, জলের পাম্প, গিজার — সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে। আর AC-র ঘরের জন্য একটা নির্দিষ্ট বাড়তি অঙ্ক ধরা হবে, যেমন এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ₹800 থেকে ₹1,200। সংখ্যাটা নিখুঁত না হলেও চলবে; আগে থেকে সবার সম্মতিতে ঠিক করা থাকলে কেউ আপত্তি করে না।

Wi-Fi, জলের জার, কেব্‌ল আর OTT

এই ছোট খরচগুলোই সবচেয়ে বেশি বাদ পড়ে যায়, কারণ প্রতিটা আলাদা করে তুচ্ছ মনে হয়। ব্রডব্যান্ড মাসে ₹800 থেকে ₹1,200, জলের জার প্রতিটা ₹40-₹60 করে মাসে দশ-বারোটা, কেব্‌ল বা DTH ₹350, আর OTT সাবস্ক্রিপশন মিলিয়ে ₹500-₹700। সব মিলিয়ে মাসে ₹2,500-₹3,000, অর্থাৎ তিনজনের মধ্যে ভাগ করলে মাথাপিছু প্রায় ₹1,000 — আর এই হাজার টাকাই সাধারণত হিসাবের বাইরে থেকে যায়।

OTT নিয়ে একটা আলাদা নিয়ম দরকার। যদি একজনের Netflix অ্যাকাউন্টে সবাই মিলে দেখে, তাহলে সেটা ভাগ হওয়া উচিত, আর সেটা চাইতে কোনও দ্বিধা রাখার দরকার নেই। কিন্তু যদি কেউ কোনও দিন ব্যবহার না করে, তাকে জোর করে ভাগে টানবেন না — সেটা করলে সে অন্য কোনও খরচেও ভাগ দিতে গড়িমসি করবে। যে ব্যবহার করে সে দেয়: সহজ নিয়ম, আর সবচেয়ে কম তিক্ততা তৈরি করে। একই কথা খাটে খবরের কাগজ, জিমের মেম্বারশিপ বা কারও নিজের ঘরের জন্য কেনা এয়ার পিউরিফায়ারের ক্ষেত্রেও — যেটা সবাই ব্যবহার করে সেটা কমন, যেটা একজন করে সেটা তার নিজের।

কাজের দিদি, রান্নার দিদি আর বাজার

কলকাতায় ঝাড়ু-মোছা আর বাসন মাজার জন্য মাসে ₹1,500-₹2,500, আর দু বেলা রান্নার জন্য ₹3,000-₹5,000 মোটামুটি চলতি হার। এগুলো নিয়মিত খরচ, তাই এগুলোকে ভাড়ার মতোই ধরুন — একই তারিখে, একই ভাগে, প্রতি মাসে একই রকম। এগুলো নিয়ে প্রতি মাসে আলোচনা করার কোনও কারণ নেই, আর করলে অকারণ ঘষাঘষি তৈরি হয়।

বাজার আরও জটিল, কারণ এখানে ব্যবহার সত্যিই অসমান — কেউ বাড়িতে খায়, কেউ অফিসে খেয়ে আসে। দুটো পথ আছে। এক, একটা সাধারণ ঝুড়ি ঠিক করুন — চাল, ডাল, তেল, মশলা, চিনি, চা, সাবান, ফিনাইল, রান্নার গ্যাস — যেটা সবাই সমানভাবে ভাগ করবে, আর বাকি সবকিছু যে কেনে সে নিজের। দুই, পুরো বাজারটাই কমন ধরুন এবং কে বাজার করবে সেটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ঠিক করুন।

প্রথম পদ্ধতিটা বেশি ন্যায্য, দ্বিতীয়টা বেশি সহজ, আর কোনটা আপনাদের জন্য কাজ করবে সেটা মাস দুয়েকেই বোঝা যায়। যেটা বাছবেন, সেই সাধারণ ঝুড়ির তালিকাটা একবার লিখে ফ্রিজে সেঁটে রাখুন — মনে রাখার উপর ভরসা করবেন না, কারণ কেউই মনে রাখে না।

যিনি বিল দিলেন আর যিনি টাকা দেবেন — গুলিয়ে ফেলবেন না

এটা ফ্ল্যাটের হিসাবের সবচেয়ে বড় ভুল, আর প্রায় প্রতিটা গ্রুপে হয়। কেউ ₹6,500-র ইলেকট্রিক বিল দিয়ে দিলে সে বেশি খরচ করেনি — সে সেই মুহূর্তে গ্রুপকে ₹6,500 ধার দিয়েছে। তার নিজের ভাগ ধরুন ₹2,600, তাহলে বাকি ₹3,900 তার পাওনা, আর সেটা তাকে কেউ চাইতে হবে না — খাতাতেই লেখা থাকবে।

তাই প্রতিটা খরচ লেখার সময় দুটো জিনিস আলাদা করে বসাতে হয়: কে দিয়েছে, আর কাদের মধ্যে ভাগ হবে। এই দুটো এক করে ফেললে ব্যালান্সের চিহ্নই উল্টে যায়। Lekhhaa-তে গ্রুপে খরচ যোগ করার সময় এই দুটো আলাদা ঘরেই থাকে, ফলে ভুল হওয়ার সুযোগ কম, আর ব্যালান্সটা সঙ্গে সঙ্গে হিসাব হয়ে যায়। অ্যাপটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং বাংলায় ব্যবহার করা যায়।

মাঝ-মাসে কেউ এলে বা চলে গেলে

ধরুন একজন ১৮ তারিখে ফ্ল্যাটে এলেন। মাসের ৩০ দিনের মধ্যে তিনি থাকলেন ১৩ দিন, তাই তাঁর ভাগ হবে পুরো ভাগের ১৩ ভাগের ৩০ অংশ। যদি তাঁর পুরো মাসের ভাগ ₹9,000 হত, তাহলে এই মাসে হবে প্রায় ₹3,900। একই অনুপাতের নিয়ম Wi-Fi, কাজের দিদি আর কেব্‌লের ক্ষেত্রেও নির্ঝঞ্ঝাটে খাটে, কারণ এগুলো সবই মাসিক ভিত্তিতে হিসাব হয়।

ইলেকট্রিক বিলের ক্ষেত্রে একটু সাবধান হতে হবে — বিলিং সাইকেলটা দেখে নিন। বিলটা যে সময়ের জন্য, নতুন ফ্ল্যাটমেট সেই সময়ের কতটা ছিলেন সেটাই আসল হিসাব, মাসের তারিখ নয়। আর বাজারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ নিয়ম হল, উনি যেদিন থেকে বাড়িতে খাচ্ছেন সেদিন থেকেই ভাগে ধরা, আর তার আগের কেনা জিনিসপত্র নিয়ে কোনও হিসাব না করা।

যিনি চলে যাচ্ছেন, তাঁর ক্ষেত্রে একটা কাজ কোনওভাবেই ভুলবেন না — যাওয়ার দিনই পুরো হিসাব বন্ধ করে সেটল করে নিন, এমনকি যদি কয়েকশো টাকার ব্যাপার হয় তাহলেও। চলে যাওয়ার পরে টাকা আদায় করা সবচেয়ে কঠিন কাজ, আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই টাকা আর আসেই না।

মাসের শেষে UPI-তে সেটল

একটা নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করুন — যেমন প্রতি মাসের ৫ তারিখ, যখন সবার মাইনে ঢুকে গেছে — আর সেই দিন সবাই মিলে হিসাব মিটিয়ে দিন। অ্যাপ কে কাকে কত দেবে সেটা বার করে দেয়, আর সাধারণত তিনজনের ফ্ল্যাটে দুটো UPI ট্রান্সফারেই সবটা মিটে যায়। টাকাটা যায় আপনার নিজের Google Pay, PhonePe বা যে কোনও UPI অ্যাপ থেকে — Lekhhaa টাকা পাঠায় না বা ধরে রাখে না, শুধু হিসাবটা রাখে আর পেমেন্ট হয়ে গেলে সেটল চিহ্নিত করার জায়গা দেয়। মাসের হিসাব একবার শূন্য হয়ে গেলে পরের মাসটা পরিষ্কার খাতায় শুরু হয়, আর কার কত বাকি সেই নিয়ে কারও মনে কোনও সন্দেহ থাকে না। ছ মাস পরে ফিরে দেখলেও প্রতিটা মাসের হিসাব আলাদা করে দেখা যায়, যেটা নতুন ফ্ল্যাটমেট এলে বা ভাড়া বাড়লে খুব কাজে লাগে।

ঝগড়া এড়ানোর তিনটে নিয়ম

সব কথা লিখে রাখুন — ভাড়ার ভাগ, AC-র বাড়তি টাকা, বাজারের সাধারণ ঝুড়ি, কে কোন বিল দেবে, আর সেটলমেন্টের তারিখ। মুখের কথা ছ মাসে বদলে যায়, আর প্রত্যেকের মনে আলাদা রকম থাকে; লেখা বদলায় না। এই তালিকাটা ফ্ল্যাটে ঢোকার প্রথম সপ্তাহেই বানিয়ে ফেলা সবচেয়ে ভালো।

খরচ সেদিনই তুলুন — সপ্তাহের শেষে মনে করে লিখতে গেলে অন্তত এক-চতুর্থাংশ খরচ বাদ পড়ে যায়, আর যিনি বাদ পড়া খরচটা দিয়েছিলেন তিনিই ঠকেন। কেউ ইচ্ছে করে বাদ দেয় না, কিন্তু ফলটা একই — আর কয়েক মাস পরে সেই মানুষটার আর খরচ তুলতে ইচ্ছে করে না।

ছোট অসাম্য নিয়ে মাথা ঘামাবেন না — কেউ একদিন ₹80-র দুধ বেশি কিনল, কেউ একদিন অটোভাড়া দিয়ে দিল, কেউ একদিন বন্ধুকে চা খাওয়াল। এগুলো ধরতে গেলে হিসাব রাখার গোটা ব্যাপারটাই বিরক্তিকর হয়ে যায়, আর কয়েক মাসে এমনিতেই মিলে যায়। বড় জায়গায় কঠোর হোন, ছোট জায়গায় উদার।

আজ একটা কাজ করুন: ফ্ল্যাটমেটদের নিয়ে একটা গ্রুপ বানিয়ে ভাড়া আর নিয়মিত বিলগুলো একবার বসিয়ে দিন, আর মাসের সেটলমেন্টের তারিখটা ঠিক করে ফেলুন। এই আধ ঘণ্টার কাজটা বাকি বছরটা শান্তিতে কাটাবে।

সাধারণ প্রশ্ন

ফ্ল্যাটমেটদের মধ্যে ভাড়া সমানভাবে ভাগ করা উচিত, নাকি ঘরের মাপ অনুযায়ী?

ঘরগুলো যদি প্রায় একই রকম হয় তাহলে সমান ভাগই সবচেয়ে সহজ আর সবচেয়ে কম ঝগড়ার। কিন্তু যদি একটা মাস্টার বেডরুমে অ্যাটাচড বাথরুম থাকে আর অন্যটা ছোট ঘর হয়, তাহলে ঘরের মাপ অনুযায়ী ভাগ করাই ন্যায্য — যেমন ₹27,000 ভাগ হতে পারে ₹11,000, ₹9,000 আর ₹7,000। যেটাই বাছুন, ফ্ল্যাটে ঢোকার আগেই ঠিক করে সংখ্যাগুলো লিখে রাখুন।

একজনের ঘরে AC আছে, ইলেকট্রিক বিল কীভাবে ভাগ করব?

বিলটাকে দু ভাগে ভাগ করুন। কমন ব্যবহারের অংশ — আলো, পাখা, ফ্রিজ, জলের পাম্প, গিজার — সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ হোক। আর AC-র ঘরের জন্য গরমের মাসগুলোয় একটা নির্দিষ্ট বাড়তি অঙ্ক ধরুন, যেমন ₹800 থেকে ₹1,200। সংখ্যাটা নিখুঁত হওয়ার দরকার নেই, আলাদা মিটার বসানোরও দরকার নেই — আগে থেকে সবার সম্মতিতে ঠিক করা থাকলেই যথেষ্ট।

কেউ মাসের মাঝখানে ফ্ল্যাটে এলে তার ভাড়া কত হবে?

দিনের অনুপাতে হিসাব করুন। কেউ ৩০ দিনের মাসে ১৮ তারিখে এলে তিনি থাকছেন ১৩ দিন, তাই পুরো ভাগ ₹9,000 হলে এই মাসে তাঁর ভাগ প্রায় ₹3,900। একই অনুপাত Wi-Fi, কেব্‌ল আর কাজের লোকের মাইনের ক্ষেত্রেও খাটে। ইলেকট্রিক বিলের ক্ষেত্রে মাসের তারিখ নয়, বিলিং সাইকেলের কতটা সময় তিনি ছিলেন সেটা দেখে হিসাব করুন।

সিকিউরিটি ডিপোজিটের হিসাব কীভাবে রাখব?

ডিপোজিট খরচ নয়, জমা টাকা — তাই মাসের হিসাবের সঙ্গে মেশাবেন না, নাহলে প্রথম মাসের খরচ অস্বাভাবিক দেখাবে। কে কত দিয়েছে সেটা আলাদা করে লিখে রাখুন। ফ্ল্যাট ছাড়ার সময় বাড়িওয়ালা যা ফেরত দেবেন সেটা ঠিক একই অনুপাতে ভাগ হবে। রঙ বা মেরামতির জন্য কাটা টাকা সবাই সমানভাবে বহন করবে, যদি না ক্ষতিটা স্পষ্টভাবে একজনের করা হয়।

ফ্ল্যাটের খরচের হিসাব রাখার জন্য কোন অ্যাপ ব্যবহার করব?

Lekhhaa-তে ফ্ল্যাটের জন্য একটা গ্রুপ বানিয়ে ভাড়া, বিল আর বাজারের খরচ যোগ করা যায়, আর কে দিয়েছে ও কাদের মধ্যে ভাগ হবে সেটা আলাদা করে বসানো যায় — ফলে ব্যালান্স নিজে থেকেই হিসাব হয়ে যায়। অ্যাপটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং বাংলায় ব্যবহার করা যায়। টাকা পাঠানোর কাজটা হয় আপনার নিজের UPI অ্যাপ থেকে, তারপর অ্যাপে সেটল চিহ্নিত করে দিলেই হিসাব শূন্য।

আজই আপনার হিসাব রাখা শুরু করুন

Lekhhaa দিয়ে খরচ ট্র্যাক করুন আর বন্ধুদের সঙ্গে বিল ভাগ করুন — সম্পূর্ণ ফ্রি।